المجاز العقلي وعلاقاته
الفعل অথবা الفعل -এর সমর্থক শব্দগুলিকে অপ্রকৃত কর্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। আর এ ক্ষেত্রে এমন কিছু কারণ থাকে যেগুলি উক্ত কাজকে প্রকৃত কর্তার সাথে সম্পৃক্তিকরণে বাধা দেয়। সেই الفعل ও অপ্রকৃত فاعل –এর মাঝে সম্পৃক্তিকরণের কারণগুলি নিম্নে প্রদত্ত হল—
১) السببية কারণমূলক অর্থাৎ উক্ত কর্মের পেছনে মূল কারণ বা উদ্যোক্তা তিনিই; যেমন আল্লাহ্ বলেছেন—
إِنّ فِرْعَوْنَ عَلاَ فِي الأرْضِ وَجَعَلَ أَهْلَهَا شِيَعاً يَسْتَضْعِفُ طَآئِفَةً مّنْهُمْ يُذَبّحُ أَبْنَآءَهُمْ وَيَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ إِنّهُ كَانَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ [سورة: القصص - الأية: 4]
নিঃসন্দেহে ফেরাউন তার দেশে উদ্ধত হয়েছিল এবং সে দেশবাসীকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে তাদের একটি দলকে দূর্বল করে দিয়েছিল। সে তাদের পুত্র-সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং নারীদেরকে জীবিত রাখত। নিশ্চয় সে ছিল অনর্থ সৃষ্টিকারী।
যেহেতু এই ‘যাবাহ’ কাজটি ফেরাউনের আদেশে সম্পাদিত হয়েছিল, সেহেতু এই কাজটিকে তার দিকেই সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
২) الزمنية কাল বা সময়মূলক; যেমন আল্লাহ্ বলেছেন—
وَقَالَ الّذِينَ اسْتُضْعِفُواْ لِلّذِينَ اسْتَكْبَرُواْ بَلْ مَكْرُ الْلّيْلِ وَالنّهَارِ [سورة: سبأ - الأية: 33]
দুর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, বরং দিবারাত্রির চক্রান্ত।
দিন বা রাত তো চক্রান্ত করে না, বরং মানুষ এই সময়ে নানা ফন্দি আটে, নানা ধরণের ষড়যন্ত্র করে।
৩) المكانية স্থানমুলক; যেমন আল্লাহ্ বলেছেন—
وَالّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَآ أَبَداً [سورة: النساء - الأية: 122]
আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎ কর্ম সম্পাদন করে আমি তাঁদেরকে এমন স্বর্গে স্থান দেবে যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হবে, তাঁরা সেখানে চিরকাল থাকবে।
‘الأنهار’ বা নদনদী কখনো প্রবাহিত হয় না। বরং ‘الأنهار’ বা নদীনালা দিয়ে দিয়ে জল প্রবাহিত হয়।
৪) المصدرية বিশেষ্যমূলক; যেমন—
عَظُم علم فلان
অমুকের জ্ঞান বৃদ্ধি পেয়ছে বা মহান হয়েছে।
এখানে ‘عَظُم’ বৃদ্ধি পেয়েছে বা মহান হয়েছে শব্দটিকে ‘علم’ বা জ্ঞান-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে ইল্ম শব্দটি আজুমা ক্রিয়ার কর্তা রূপে ব্যবহার হয়েছে।
৫) المفعولية কর্মবাচ্যমূলক; যেমন আল্লাহ্ বলেছেন—
خُلِقَ مِن مّآءٍ دَافِقٍ [سورة: الطارق - الأية: 6]
সৃষ্টি করা হয়েছে স্খলিত জল থেকে।
এখানে ‘دَافِقٍ’ স্খলনকারী কর্তৃবাচ্য শব্দটি ‘المدفوق’ স্খলিত কর্মবাচ্যের অর্থে ব্যবহার হয়েছে।
৬) الفاعلية কর্তৃবাচ্যমূলক; যেমন আল্লাহ্ বলেছেন—
وَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرآنَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ الّذِينَ لاَ يُؤْمِنُونَ بِالاَخِرَةِ حِجَاباً مّسْتُوراً [سورة: الإسراء - الأية: 45]
যখন তুমি কুরআন পাঠ করো, আমি তোমার ও যারা পরকালকে বিশ্বাস করে না তাদের মাঝে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা রেখে দিই।
এখানে ‘مّسْتُوراً’ কর্মবাচ্য শব্দটি ‘ساترا’ কর্তৃবাচ্যের অর্থে ব্যবহার হয়েছে।
রূপক। গৌণ কর্তা

No comments:
Post a Comment