المجاز المرسل وعلاقاته
কোন শব্দকে তার প্রকৃত অর্থে ব্যবহার না করে রূপক অর্থে ব্যবহার করা। আর এ দু’য়ের মাঝে সম্পর্কটা তাশবীহ ব্যতীত অন্য কিছু হবে। আর সেখানে এমন কোন কারণ থাকবে যা প্রকৃত অর্থ প্রয়োগে অন্তরায় হবে। যেমন—
قبضنا على عين من عيون الأعداء.
‘عين’ শব্দটি দ্বারা এখানে প্রকৃত অর্থ চক্ষু বোঝানো হয়নি। বরং এখানে তা দ্বারা গুপ্তচরকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘قبضنا’ শব্দটি প্রকৃত অর্থ প্রয়োগে অন্তরায় সৃষ্টি করছে।
علاقات المجاز المرسل
১) الجزئية যখন ‘الجزء’ অর্থাৎ অংশ বলে ‘الكل’ (সমগ্র) –কে বোঝানো হয়। যেমন আল্লাহর বাণীঃ
فتحرير رقبة مؤمنة
এখানে ‘رقبة’ (গ্রীবা) বলে ‘الإنسان’ (মানুষ)- কে বোঝানো হয়েছে।
২) الكلية যখন ‘الكل’ অর্থাৎ সমগ্র বলে ‘الجزء’ (অংশ)-কে বোঝানো হয়। যেমন আল্লাহ্র বাণীঃ
يجعلون أصابعهم في آذانهم.
এখানে ‘أصابعهم’ (আঙুল) বলে ‘أناملهم أي أطراف أصابعهم’ (তার এক অংশ)-কে বোঝানো হয়েছে।
৩) المحلية যখন ‘محل’ অর্থাৎ স্থান বলে অবস্থানকারীদের বোঝানো হয়। যেমন আল্লাহ্ বলেছেনঃ
واسأل القرية
এখানে ‘القرية’ (গ্রাম) বলে ‘أهل القرية ’ (গ্রামবাসীদের) কে বোঝানো হয়েছে।
৪) الحالية যখন ‘الحال’ অর্থাৎ অবস্থা বা অবস্থানকারী বলে ‘المحل’ অর্থাৎ স্থানকে বোঝানো হয়। যেমন আল্লাহ্ বলেছেনঃ
إِنَّ الْأبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ
এখানে ‘نعيم’ (সুখ) বলে ‘مكان النعيم ’ অর্থাৎ ‘الجنة’-কে বোঝানো হয়েছে।
৫) السبيبية যখন ‘سبب’ অর্থাৎ কারণ বলে ‘مسبب’ অর্থাৎ ফলাফল বোঝানো হয়। যেমন—
رعت الماشية الغيث
এখানে ‘الغيث’ (বৃষ্টি) বলে ‘النبات’ (ঘাস) বোঝানো হয়েছে।
৬) المسبَّبِيّة যখন ‘مسبب’ অর্থাৎ ফলাফল বলে ‘سبب’ অর্থাৎ কারণ বোঝানো হয়। যেমন আল্লাহ্ বলেছেনঃ
هُوَ الَّذِي يُرِيكُمْ آيَاتِهِ وَيُنَزِّلُ لَكُم مِّنَ السَّمَاء رِزْقًا
এখানে ‘الرزق’ (জীবিকা) বলে ‘المطر’ (বৃষ্টি) কে বোঝানো হয়েছে।
৭) اعتبار ما كان পূর্বাবস্থাকে লক্ষ্য করে বর্তমানকে নাম দেওয়া। যেমন আল্লাহ্ বলেছনঃ
وآتوا اليتامى أموالهم
এখানে ‘اليتامى’ শব্দটি প্রকৃত অর্থে ব্যবহার হয়নি। কারণ, এতীম সে যে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বে পিতৃহারা হয়। আর সম্পদ গ্রহণ সে তখনই করবে যখন সে প্রাপ্ত বয়স্ক হবে। তো এখানে তাকে এতীম বলা হয়েছে পূর্ব অবস্থাকে লক্ষ্য করে।
৮) اعتبار ما يكون ভবিষ্যতকে লক্ষ্য করে বর্তমানকে নাম দেওয়া। যেমন আল্লাহ্ বলেছেনঃ
إنَّكَ ميتٌ وإنهم ميتون
এখানে ‘ميتٌ’ শব্দটি প্রকৃত অর্থে ব্যবহার হয়নি। কারণ, এখানে সম্বোধিত ব্যক্তি রাসুল (সাঃ)। তিনি জীবিত। তাকে ‘ميتٌ’ বলা হয়েছে ভবিষ্যতকে লক্ষ্য করে।
আরবি লক্ষণা

No comments:
Post a Comment